যশোরে তারেক রহমানের জনসমুদ্র: জামায়াতকে ‘নারীবিদ্বেষী’ তোপ ও মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ঘোষণা

0
যশোরে তারেক রহমানের জনসমুদ্র: জামায়াতকে ‘নারীবিদ্বেষী’ তোপ ও মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ঘোষণা

যশোর প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে যশোরের উপশহর ক্রীড়া উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা। সোমবারের এই বিশাল সমাবেশে তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক বিতর্কিত অবস্থান, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারীদের মর্যাদা এবং আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

সকাল থেকেই যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেন। দুপুরের আগেই উপশহর কলেজ মাঠ ছাড়িয়ে পাশের ঈদগাহ ময়দান, উদ্যান এবং সংলগ্ন রাস্তাঘাট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জনস্রোত সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আয়োজকদের।

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে তারেক রহমান তার বক্তব্যের বড় একটি অংশ ব্যয় করেন। তিনি বলেন:

“একাত্তরে তাদের ভূমিকার কারণেই লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে এবং মা-বোনেরা সম্মান হারিয়েছে। আজ আবারও প্রমাণ হলো, দেশের নারী সমাজের প্রতি তাদের কোনো দরদ নেই।” জামায়াতের ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক’ হওয়ার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা এটিকে মিথ্যা বলছেন। যারা প্রকাশ্যে মিথ্যা বলে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

৫ আগস্টের পর একটি রাজনৈতিক দল নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ঘরে আটকে রাখার যে চেষ্টা করছে, তাকে বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করে তারেক রহমান এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন:

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারের মা বা গৃহিণীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে তাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখা ৫০ লক্ষ নারী শ্রমিকের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কেবল দেশ এগোবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোট গণনায় সময়ক্ষেপণের আভাস নিয়ে তারেক রহমান সতর্কবার্তা দেন: “ভোট গণনা করতে কেমন সময় লাগে, দেশের মানুষের সেই ধারণা আছে। গণনায় দেরি করার উছিলায় যদি কেউ কোনো সুযোগ নিতে চায়, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘সৎ লোকের শাসনের’ নাম করে একটি চক্র সাধারণ মানুষের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে ভোট চুরির ‘অসৎ’ নীল নকশা সাজাচ্ছে।

বক্তৃতায় তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি জেলার ২২ জন ধানের শীষের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘উলাশী খাল’ খননের উদাহরণ টেনে ক্ষমতায় গেলে পুনরায় দেশব্যাপী খাল খনন, কৃষিকার্ড এবং তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন।

“করব কাজ—গড়ব দেশ, সবার আগে—বাংলাদেশ”—এই স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘দেশপ্রেমিক বনাম দেশবিরোধীদের লড়াই’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। জনসভা শেষে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।