ঢাকা-১২ আসনে ‘সাইফুল’ যুদ্ধের অবসান: নীরব-হককে পেছনে ফেলে জামায়াতের সাইফুল আলম বিজয়ী

0
ঢাকা-১২ আসনে ‘সাইফুল’ যুদ্ধের অবসান: নীরব-হককে পেছনে ফেলে জামায়াতের সাইফুল আলম বিজয়ী

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বেশি প্রার্থী সম্বলিত আসন ঢাকা-১২-তে শেষ হাসি হাসলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন। ১৫ জন প্রার্থীর এই বিশাল তালিকায় মূল আলোচনা ছিল তিন ‘সাইফুল’-এর লড়াই নিয়ে। নাটকীয়তা ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দাঁড়িপাল্লা।

তিন সাইফুলের ত্রিমুখী লড়াই ও ভোটের সমীকরণ

তেজগাঁও, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বীরই নাম ছিল ‘সাইফুল’। তবে ভোটারদের রায় শেষ পর্যন্ত জামায়াতের বাক্সে জমা পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী: সাইফুল আলম (জামায়াত): ৫৩,৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী।

সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি): ৩০,৯৬৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (কোদাল প্রতীক)।

সাইফুল আলম নীরব (বিএনপির বিদ্রোহী): ২৯,৮৬৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় (স্বতন্ত্র)।

নির্বাচনের আগে এই আসনটি নিয়ে বিএনপি জোটের ভেতরে ব্যাপক সমীকরণ লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি প্রাথমিক মনোনয়নে তাদের আলোচিত নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জোটের স্বার্থে শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি।

দলীয় এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি নীরব। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে অনড় থাকেন। ফলে ‘বিদ্রোহের’ দায়ে ভোটের আগেই তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলে দেখা গেছে, বিএনপির বিদ্রোহ ও জোটের জটিলতার সুযোগে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে জামায়াত।

ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন প্রার্থীর ভিড়ে ভোটারদের প্রধান আকর্ষণ ছিল একই নামের তিন প্রার্থীর ‘ব্র্যান্ডিং’। শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় এবং নীরব-হক লড়াইয়ের সুযোগে জামায়াতের সাইফুল আলম একটি শক্ত বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই জয় ঢাকার রাজপথে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।