নির্বাচনে ত্রিমুখী যোগসাজশ ও বিতর্কিত মন্ত্রিসভার অভিযোগ এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের

0
নির্বাচনে ত্রিমুখী যোগসাজশ ও বিতর্কিত মন্ত্রিসভার অভিযোগ এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে গোপন আঁতাত বা যোগসাজশ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ আনেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি গভীর যোগসাজশ পরিলক্ষিত হয়েছে। যদি আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের যে দাবি ছিল, তাকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বেশ কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন:

ব্যবসায়ী নির্ভরতা: মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা জনগণের চেয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন।

ঋণখেলাপী ইস্যু: মন্ত্রীদের অনেকের বিরুদ্ধে মোট ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ঋণখেলাপীরা কবে টাকা পরিশোধ করবেন তা জাতি জানতে চায়।”

বয়স ও বৈচিত্র্য: মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০ বছর। এতে তারুণ্যের প্রতিফলন ঘটেনি এবং নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি আঞ্চলিক বৈষম্যের কারণে অনেক বড় অঞ্চল থেকে কোনো মন্ত্রী নেওয়া হয়নি।

বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তি: এমন একজনকে তিনটি মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও খুনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০০১-২০০৬ মেয়াদের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাও এই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে সংসদ অধিবেশন ডাকার এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং প্রয়োজনে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সারাদেশে বিচার চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলা হচ্ছে এবং মিডিয়া তা উৎসাহের সাথে প্রচার করছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।