সংবিধান সংস্কার: ‘সংসদীয় ক্ষমতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করলে আরেকটি ৫ আগস্টের সৃষ্টি হবে’

0
সংবিধান সংস্কার: ‘সংসদীয় ক্ষমতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করলে আরেকটি ৫ আগস্টের সৃষ্টি হবে’

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানকে ‘সুবিধাবাদ ও মুনাফেকি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোট। নেতারা বলেছেন, ৭০ শতাংশ জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে কেউ ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকতে পারেনি, বর্তমান সরকারও পারবে না। গণভোটের রায়কে সংসদীয় ক্ষমতার জোরে প্রত্যাখ্যান করা হলে রাজপথে কঠোর মোকাবিলার ঘোষণা দেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ‘জুলাই সনদ কার্যকর ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার’ দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলা হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ভোটের ফলাফলে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করলে তার ফলাফল সরকারি দলের জন্য সুখকর হবে না।”

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বিএনপির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি আজ সুবিধাবাদের রাজনীতি করছে। যেসব অধ্যাদেশে ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তা তাদের পছন্দ, কিন্তু জবাবদিহিতার প্রস্তাবনা তাদের অপছন্দ।” তিনি আরও বলেন, যারা তলে তলে গণভোটের বিপক্ষে প্রচারণা চালায় আর প্রকাশ্যে মৌন থাকে, তাদের রাজনীতি ‘মুনাফেকি’ ছাড়া আর কিছু নয়।

বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন যে, দেশ পরিচালনার জন্য ১৯৭২ সালের ‘মুজিববাদী সংবিধান’ আর গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতার এককেন্দ্রিকীকরণ চায় বলেই মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন ও গণভোট এড়াতে চাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া বৈধ হলে, জনগণের ভোটে সংবিধান সংস্কার কেন অবৈধ হবে?”

জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে জনগণের রায়কে তুচ্ছজ্ঞান করলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নেমে আসবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত ৫ আগস্ট জনতা সংসদ ভবনে ঢুকে তাদের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছে। সেই জনতাকে উপেক্ষা করার ফল শুভ হবে না।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন হামিদুর রহমান আযাদ (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াত) নূরুল ইসলাম বুলবুল (সংসদ সদস্য, জামায়াত) ড. আহমদ আব্দুল কাদের (মহাসচিব, খেলাফত মজলিস) মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান, লেবার পার্টি) রাশেদ প্রধান (জাগপা নেতা)