‘বঙ্গভবনে দেড় বছর ছিল ঝড়ের মতো, পাশে ছিল বিএনপি’: বিস্ফোরক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

0
‘বঙ্গভবনে দেড় বছর ছিল ঝড়ের মতো, পাশে ছিল বিএনপি’: বিস্ফোরক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আজকের ডেস্কঃ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ধ্বংস এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির একাধিক ‘চক্রান্ত’ নস্যাৎ করার দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে বঙ্গভবনের ভেতরের অজানা অধ্যায়, তাকে অপসারণের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, গত দেড় বছর তাঁর ওপর দিয়ে প্রচণ্ড ঝড় বয়ে গেছে। তিনি বলেন, “দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার কারণেই কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারেনি।

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বিএনপির ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য। তিনি জানান, যখন তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল শতভাগ।” বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চান না বরং সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে চান।

রাষ্ট্রপতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, তাকে সরিয়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে বসানোর চেষ্টা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। “সরকারের পক্ষ থেকে একজন উপদেষ্টা ওই বিচারপতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তারা ঘণ্টাব্যাপী মিটিং করেন। তবে ওই বিচারপতি রাজি হননি।”

মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিন বাহিনীর প্রধানরা বিভিন্ন সময় তাঁর সাথে দেখা করে মনোবল জুগিয়েছেন। এমনকি বঙ্গভবনের সামনে যখন ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তখনো সশস্ত্র বাহিনী তাঁর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: তাঁকে দেশের বাইরে কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে যেতে দেওয়া হয়নি। এক রাতের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে তাঁর ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জনগণের কাছে তাঁর কার্যক্রম পৌঁছানো বন্ধ করতে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ আটকে দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ষড়যন্ত্রের দাবি এবং অন্যদিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—সব মিলিয়ে বঙ্গভবন ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে।