মসজিদে খুতবা ও ইমামতি নিয়ে ধুন্ধুমার: পাবনায় জামায়াত এমপি ও বিএনপি সমর্থকদের ধস্তাধস্তি, থমথমে পরিস্থিতি

0
মসজিদে খুতবা ও ইমামতি নিয়ে ধুন্ধুমার: পাবনায় জামায়াত এমপি ও বিএনপি সমর্থকদের ধস্তাধস্তি, থমথমে পরিস্থিতি

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামাজে ইমামতি ও খুতবা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাঁথিয়া পৌর এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, কিলঘুষি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার জুমার জামাত শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে উপজেলার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরেই এ নজিরবিহীন হট্টগোল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মসজিদের নির্ধারিত খতিব ও ইমামের পেছনেই সাধারণ মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং সাঁথিয়া আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত ১৭ জুলাইও এই মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের আপত্তির মুখে তখন তিনি পিছিয়ে যান।

আজ শুক্রবার তিনি পুনরায় আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এলে প্রথমে মাইক নিয়ে ১০ মিনিটের মতো বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে তিনি নিজে খুতবা পাঠ ও নামাজে ইমামতি করার ঘোষণা দিলে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা তীব্র আপত্তি জানান। এতে মসজিদের ভেতরেই জামায়াত-শিবির ও এনসিপি সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম অভিযোগ করে বলেন, “এমপি সাহেব সম্পূর্ণ গায়ের জোরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে মসজিদে এসেছিলেন। মাইক কেড়ে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর জোরপূর্বক খুতবা দিতে গেলে মুসল্লিরা আপত্তি জানায়। তখন তাদের সাথে থাকা লোকজন ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করে। পবিত্র জুমার দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই এই ঝামেলা বাঁধানো হয়েছে।”

পাবনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, *”আমি কোনো শক্তি প্রদর্শন করতে যাইনি, বরং সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয়দের আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতা করিম ও সিরাজ বহিরাগত ক্যাডার নিয়ে এসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় কাজে বাধা দিয়েছে এবং আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। এমনকি নামাজ শেষে আমাদের এক সমর্থকের দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাটও করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান হাতাহাতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান “এমপি সাহেবের নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির আগাম তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই মসজিদে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। খুতবার ঠিক আগে মসজিদের ভেতর কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কি হলেও পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।”