আজকের ডেস্কঃ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পৃথক বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বের শক্তিশালী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতারা। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে পাঠানো এসব বার্তায় বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
চীন: ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তার বার্তায় বাংলাদেশকে ‘ভালো প্রতিবেশী ও বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশ সবসময় একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার পরিচয় দিয়েছে। চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়। এছাড়া চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পৃথক বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অংশীদারিত্ব জোরদারের লক্ষ্য
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ তার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্বপ্নে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ভারত: অভিন্ন ইতিহাস ও গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো বার্তায় বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ। এই শক্তিশালী ভিত্তিই দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
রাশিয়া: ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন স্বাধীনতার সংগ্রামে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল তারা। বর্তমানে বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের মাইন অপসারণসহ যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে রাশিয়ার সহায়তাকে বাংলাদেশিরা আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাজ্য: কমনওয়েলথ বন্ধন ও জলবায়ু নেতৃত্বে প্রশংসা
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস তার বার্তায় বলেন, পারস্পরিক সম্মান এবং কমনওয়েলথের বন্ধন দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি যুক্তরাজ্যের উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ইতালি ও পাকিস্তান: প্রবৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যের বার্তা
ইতালি: প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বিশাল ও কর্মঠ বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বন্ধুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
পাকিস্তান: পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে। তারা দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বিশ্বনেতাদের এই বিপুল অভিনন্দন বার্তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ইতিবাচক মনোভাবকেই প্রতিফলিত করছে।

