‘আজ ঠান্ডা রাত, বসে আছিস কেন? কাজ কর’: পুলিশি অভয়েই চলত আলালের গরু চুরি!

0
‘আজ ঠান্ডা রাত, বসে আছিস কেন? কাজ কর’: পুলিশি অভয়েই চলত আলালের গরু চুরি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ চুরি করতে যাওয়ার আগে পুলিশের অনুমতি নিতেন চোর! শুনতে সিনেমার গল্পের মতো মনে হলেও এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা। থানা পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) সঙ্গে যোগসাজশ করে এলাকায় গরু চুরির সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাসুদ, যিনি বাঞ্ছারামপুর থানায় কর্মরত।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাতে। বাঞ্ছারামপুরের দশানি গ্রামের খামারি মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী তল্লাশি চালিয়ে পাশের বাঁশগাড়ি গ্রাম থেকে অভিযুক্ত চোর আলাল মিয়াকে (বাড়ি জগন্নাথপুর) আটক করে এবং চুরি হওয়া গরুটি উদ্ধার করে।

আটকের পর উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে আলাল মিয়া নিজের মোবাইল ফোন বের করে দেন। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। আলালের ফোনের ইমো অ্যাপ, ভয়েস মেসেজ এবং কল লিস্ট ঘেঁটে দেখা যায়, এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের গভীর সখ্য এবং নিয়মিত যোগাযোগ।

স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে এবং মোবাইলের তথ্য অনুযায়ী, চুরির আগে আলাল মিয়া এএসআই মাসুদকে ইমোতে কল দিয়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ নিতেন। আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর জানান, তাদের কথোপকথন ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

একটি অডিও বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এএসআই মাসুদ চোর আলালকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন— “আজ ঠান্ডার দিন, রাত ১টা বাজে। বসে আছিস কেন? কাজ কর।” প্রতিউত্তরে চোর আলাল বলেন, “কাজ করতে বের হচ্ছি। ধরা পড়লে এগিয়ে এসে সহযোগিতা কইরেন।”

ধরা পড়ার পর চোর আলাল মিয়া স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, এক সময় তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সূত্রেই এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয়। পরবর্তীতে নিয়মিত মাসোহারা ও বখরা দেওয়ার বিনিময়ে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সবশেষ গরু চুরির অভিযানে যাওয়ার আগেও তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং বিপদে পড়লে উদ্ধারের নিশ্চয়তা চান।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে আমি তাকে না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি, এটা সত্য। তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।” যদিও একজন পেশাদার চোরের সঙ্গে কেন এবং কী প্রয়োজনে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেন, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানিয়েছেন, “গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। আমাদের এক সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি। তদন্তে যদি অসৎ উদ্দেশ্যে বা অপরাধে সহায়তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায়—এমন ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী বাহিনীর সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।