টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে থানায় প্রভাব খাটাতে গিয়ে শেষ রক্ষা হলো না এক ধুরন্ধর প্রতারকের। টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় জমি সংক্রান্ত মামলার ‘তদবির’ করতে এসে খোদ পুলিশের হাতেই হাতকড়া পরতে হয়েছে মো. মিজানুর রহমান (৩০) নামে এক ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টরকে (এসআই)।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চাঞ্চল্যকর এই আটকের ঘটনাটি ঘটে। আটক মিজানুর কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারি উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মধুপুর থানায় সদর্পে প্রবেশ করেন মিজানুর। নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের ৩৬তম ব্যাচের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। এমনকি বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা এলআইসি (LIC)-তে কর্মরত আছেন বলে দম্ভোক্তি করেন।
মধুপুর পৌর শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার একটি বিতর্কিত জমি সংক্রান্ত মামলায় এক পক্ষের হয়ে দালালি বা তদবির করতে এসেছিলেন তিনি। ডিউটি অফিসার ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ওপর নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন এই ভুয়া কর্মকর্তা।
থানায় কর্মরত এসআই সেলিম তালুকদারের কাছে মিজানুরের অতি-উৎসাহী আচরণ ও অপেশাদার কথাবার্তায় খটকা লাগে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর ইকবালকে অবহিত করেন।
পরবর্তীতে ওসির কক্ষে নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে মিজানুরের সাজানো পরিচয় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। পুলিশের বিশেষায়িত ব্যাচ এবং বর্তমান কর্মস্থল নিয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেওয়ায় এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, তিনি আসলে কোনো পুলিশ সদস্য নন। মূলত চুক্তির বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি পক্ষের হয়ে দালালি করতে তিনি এই ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
মধুপুর থানার ওসি মো. জাফর ইকবাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আটক যুবক নিজেকে পুলিশের চৌকস অফিসার দাবি করে থানায় এসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া পরিচয়ধারী এবং দালাল চক্র থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

