কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলা: জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড

0
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলা: জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ (KUNA) এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি এক বিবৃতিতে জানান, ইরান এবং তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো সরাসরি এই ‘নির্লজ্জ’ হামলা পরিচালনা করেছে। ড্রোনগুলো বিমানবন্দরের ভেতরে কুয়েত এভিয়েশন ফুয়েলিং কোম্পানির (KAFCO) জ্বালানি ট্যাংকগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

বিস্ফোরণের পরপরই ট্যাংকে বিশাল আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায় এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। জরুরি পরিষেবা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। মুখপাত্র আল-রাজি বলেন, “হামলায় অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি ট্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো মানুষের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর আজ যুদ্ধের ৩৩তম দিন পার হচ্ছে। এই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা জোরদার করেছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরান তার হামলার লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও বিমান চলাচল অবকাঠামোর ওপর দৃষ্টি দিচ্ছে। কুয়েত বিমানবন্দর হামলা সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

কুয়েত কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে। কুয়েত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে, গত এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ওমান, কাতার এবং বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায়ও সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।