
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ পহেলা বৈশাখের শুভলগ্নে দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। ল্যাপটপে বোতাম টিপে দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মোবাইল ওয়ালেটে নগদ আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই ডিজিটাল সেবার যাত্রা শুরু হয়।
বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন। ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও খালখনন কর্মসূচির সফল ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো ‘কৃষক কার্ড’। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার ১৫ জন কৃষকের হাতে সরাসরি কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন সরকারপ্রধান।
কার্ড পাওয়া প্রথম ১৫ কৃষক হলেন, আবু কায়সার, রোমান, শাহনুর আলম, শাহ আলম, জুলেখা আখতার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আখতার, শামীমা আখতার, লায়লা বেগম ও তাহমিনা।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করলে সমবেত কিষাণ-কৃষাণিরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চারটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, দেশের ১১টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ২২ হাজার ৬৫ জন ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বছরে ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সুবিধা পাবেন তারা।
আজ যে ৯ উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলো: পঞ্চগড় সদর (কমলাপুর) ও বোদা (পাঁচপি) বগুড়া (শিবগঞ্জ), ঝিনাইদহ (শৈলকূপা) পিরোজপুর (নেছারাবাদ), কক্সবাজার (টেকনাফ) রাজবাড়ী (গোয়ালন্দ), মৌলভীবাজার (জুড়ী) ও জামালপুর (ইসলামপুর)। (উল্লেখ্য, কুমিল্লার আদর্শ সদরে আগামী ১৭ এপ্রিল কার্ড বিতরণ করা হবে।)
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং এফএও প্রতিনিধি জিয়াকুন শি।
পহেলা বৈশাখের এই উপহারকে কৃষি বিপ্লবের পথে সরকারের একটি যুগান্তকারী ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
