আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দীর্ঘ চার দশকের বরফ গলিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরবৈরী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু চিরচেনা পারমাণবিক প্রশ্নেই আটকে গেল ঐতিহাসিক এই শান্তি প্রচেষ্টা। ওয়াশিংটনের ২০ বছরের স্থবিরতার প্রস্তাব বনাম তেহরানের ৫ বছরের অনড় অবস্থানে শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা ছাড়াই শেষ হয়েছে ‘সেরেনা’ হোটেলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক।
নিবন্ধিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত করার শর্ত দিয়েছে। বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ৫ বছরের বেশি পিছু হটতে নারাজ। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছরের একটি মধ্যস্থতায় পৌঁছাতে পারে দুই পক্ষ।
তিনটি পৃথক কক্ষে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে বার্তার জন্য বারবার কক্ষের বাইরে আসতে হয়েছে।
সূত্রমতে, আলোচনার এক পর্যায়ে প্রায় ৮০ শতাংশ সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভা বৈঠকের পর হামলাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেন। আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চা-বিরতির মাধ্যমে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করা এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালি সচল রাখা। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
আলোচনা ইসলামাবাদে থমকে গেলেও আশার আলো দেখাচ্ছেন স্বয়ং ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি জানান, ইরান পুনরায় যোগাযোগ করেছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে হোয়াইট হাউস মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না”— এই নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন অটল।
ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের ‘রেড লাইন’ এবং তেহরানের ‘জাতীয় স্বার্থের’ মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয় কি না।

