ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘চুক্তি না মানলে ধ্বংস হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু’

0
ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘চুক্তি না মানলে ধ্বংস হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু বা কৌশলগত চুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতিবাচক আলোচনার লক্ষ্যে বর্তমানে পাকিস্তানের পথে রয়েছেন। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তেহরানকে কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।

রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই মার্কিন প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে পৌঁছাবেন। এবারের বিশেষ প্রতিনিধি দলে থাকছেন, স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের বিশেষ দূত। জারেড কুশনার, ট্রাম্পের জামাতা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অভিজ্ঞ কূটনীতিক।

নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এই দলটি ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করবে।

আলোচনার উদ্যোগ নিলেও ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উস্কানিমূলক গুলি চালিয়েছে। একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইরান প্রণালিটি বন্ধের হুমকি দিলেও মার্কিন অবরোধের কারণে তারা নিজেরাই এখন অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি’ প্রস্তাব করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এটিই তেহরানের জন্য শেষ সুযোগ হতে পারে। কূটনৈতিক পথে সমাধান না এলে সামরিক অ্যাকশনের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “যদি তারা এই চুক্তি মেনে না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে। তাদের অবকাঠামো বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের মাটিতে এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে। একদিকে আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি—ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপের নীতি ইরানকে কতটুকু নমনীয় করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সোমবার সন্ধ্যার বৈঠকের পর এই আলোচনার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।