ট্রাম্পের আকস্মিক নমনীয়তা: তেহরানকে ‘সমন্বিত প্রস্তাবের’ সুযোগ দিয়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

0
ট্রাম্পের আকস্মিক নমনীয়তা: তেহরানকে 'সমন্বিত প্রস্তাবের' সুযোগ দিয়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইরানকে একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ (Comprehensive Proposal) তৈরির সুযোগ দিতেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর এই কৌশলগত ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই নতুন কূটনৈতিক চালের কথা জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওয়াশিংটন কেবল যুদ্ধের হুঙ্কার নয়, বরং একটি টেকসই সমাধান চায়। হোয়াইট হাউসের মতে, এই অতিরিক্ত সময় তেহরানকে তাদের দাবি ও প্রস্তাবনাগুলো গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ দেবে।

এবারের শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা সফল করতে পর্দার আড়ালে জোর তৎপরতা চলছে। ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যের একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো ও অর্থবহ করতেই তিনি সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্যগুলো হলো: ইরানকে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির খসড়া তৈরির সুযোগ দেওয়া। তৃতীয় কোনো পক্ষ ছাড়াই সরাসরি আলোচনার পথ সুগম করা। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি শান্ত করা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে সময় এখন মাত্র তিন দিন (৭২ ঘণ্টা)। এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি কার্যকর কোনো প্রস্তাব নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের আগের দেওয়া সেই ‘হামলার হুঁশিয়ারি’ পুনরায় কার্যকর হতে পারে।

ট্রাম্পের এই অবস্থান একই সঙ্গে ‘জলপাই শাখা’ (শান্তির প্রতীক) এবং ‘তলোয়ারের’ সংমিশ্রণ। তিনি একদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখছেন, অন্যদিকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তেহরানকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখছেন।

আগামী তিন দিনের মধ্যে ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির পরবর্তী গতিপথ। যদি এই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আলোচনার বরফ গলে, তবে এটি হতে পারে দশকের সেরা কূটনৈতিক অর্জন। অন্যথায়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পারস্য উপসাগর আবারও অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল।