আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের উত্তরাখণ্ডে ঐতিহ্যবাহী ‘চার ধাম’ যাত্রা শুরু হতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নতুন এক ধর্মীয় বিতর্ক। এবার যমুনোত্রীসহ পবিত্র ধামগুলোতে অহিন্দু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের অভিযোগ উঠেছে। মন্দির কমিটির নতুন ফরমান অনুযায়ী, অহিন্দু দর্শনার্থীদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার পেতে হলে আবশ্যিকভাবে ‘পঞ্চগব্য’ সেবন করতে হবে।
সাধারণত হিন্দু ধর্মে ধর্মীয় আচার ও শুদ্ধিকরণের কাজে পঞ্চগব্য ব্যবহৃত হয়। তবে তীর্থযাত্রার ক্ষেত্রে একে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে যুক্ত করার ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা সনাতন ধর্মের অনুসারী নন, তাদের ভক্তির প্রমাণ দিতেই এই প্রথা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগব্য হলো পাঁচটি উপাদানের একটি মিশ্রণ, যা মূলত গরু থেকে প্রাপ্ত: গরুর দুধ, দই, ঘি, গোবর, গোমূত্র (এর সঙ্গে পবিত্র গঙ্গাজল মিশ্রিত করা হয়)
যমুনোত্রী মন্দির কমিটির মুখপাত্র পুরুষোত্তম উনিয়াল এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, এটি কোনো নতুন বিষয় নয় বরং ঐতিহ্যের পুনরুত্থান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “সনাতন ধর্ম অনুসারে পঞ্চগব্য ছাড়া কোনো ধর্মীয় আচার পূর্ণতা পায় না। আমরা যুগ যুগ ধরে এই পরম্পরা অনুসরণ করে আসছি। সাম্প্রতিক সময়ে মন্দিরে এমন অনেক মানুষের আনাগোনা বাড়ছে যাদের সনাতন ধর্মের প্রতি কোনো অনুরাগ নেই। এই শর্তের মাধ্যমে কেবল প্রকৃত তীর্থযাত্রীরাই দর্শনের সুযোগ পাবেন।”
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থানে প্রবেশের জন্য এ ধরনের শারীরিক বা আচারিক শর্তারোপ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, কট্টরপন্থী সনাতনী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলছে, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা ও ‘অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ।
চার ধাম যাত্রার সূচনালগ্নেই এই বিতর্ক পর্যটন ও তীর্থযাত্রীদের মনে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিদেশি পর্যটক এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী যারা হিমালয়ের এই প্রাচীন স্থাপত্য ও সংস্কৃতি দেখতে আসেন, তাদের জন্য এই শর্ত একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

