আমতলী প্রতিনিধিঃ পবিত্র সম্পর্কের চরম অবমাননা ও পৈশাচিকতার এক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে বরগুনার আমতলীতে। নিজের জন্মদাতা পিতার হাতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে ক্রমাগত ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। এই ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত বাবা ওসমান মোল্লাকে (৩৮) মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ওসমান মোল্লা উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী (উড়শিতলা) গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মোসা. শাহীনুর বেগমের অভিযোগে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন ওসমান মোল্লা। শাহীনুর বেগমের শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে নিজ কন্যার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তেন এই পাষণ্ড।
গণমাধ্যমের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগীর মা বলেন “প্রথম দিকে যখন মেয়ে অভিযোগ করত, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু পরে নিজের চোখে তার জঘন্য কর্মকাণ্ড দেখে স্তব্ধ হয়ে যাই। সে আমার কাছে বারবার ক্ষমা চেয়ে শুধরানোর সুযোগ নিয়েছিল, কিন্তু তার স্বভাব বদলায়নি। আমি আমার স্বামীর এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন পৃথিবীর আর কোনো বাবা নিজের সন্তানের সাথে এমন অমানবিক কাজ করার সাহস না পায়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার আগে একাধিকবার আত্মীয়-স্বজন ও প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের অনীহা ও পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মা শাহীনুর বেগম।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমতলী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওসমান মোল্লাকে আটক করে। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার কুকর্মের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাচনাইন পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান ভুক্তভোগী কিশোরী এবং তার মা পুলিশের কাছে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে শারীরিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী এই নজিরবিহীন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

