আদালত কক্ষে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক

0
আদালত কক্ষে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের বিচার বিভাগে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আদালত চলাকালে এজলাস কক্ষ থেকে এক বিচারকের ছুড়ে মারা ভারী কাঁচের পেপারওয়েটের আঘাতে রক্তভেজা হয়েছেন এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আওতাধীন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর এজলাসে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আহত ওই আইনজীবীর নাম সাবিহা সুলতানা।

আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়ার আদালতে বিচারকাজ বা শুনানি চলছিল। ওই সময় এজলাস কক্ষের পেছনের সারির একটি বেঞ্চে কয়েকজন আইনজীবী ও পেশাগত শিক্ষানবিশ সদস্য নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়া বিচারকের আসন থেকেই আচমকা টেবিলের ওপর থাকা একটি ভারী কাঁচের পেপারওয়েট আইনজীবীদের লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন। পেপারওয়েটটি সোজা গিয়ে লাগে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায়। সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং এজলাসের ভেতরেই আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

“একটি আদালতের এজলাসে বিচারকের আসন থেকে এই ধরনের ক্ষিপ্ত ও মারমুখী আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এমন ঘটনা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।” — অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি।

এ ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এই নজিরবিহীন ঘটনার কঠোর নিন্দা ও দোষী বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী। বিচারকের এমন উসকানিমূলক ও সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত বিচারকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে আইনজীবী সমিতি।

অভিযোগের সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়ার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এজলাসে বিচারকের এমন চরম অনভিপ্রেত আচরণ গোপালগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।