রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর নগরীর কাটাখালীর বেলঘোরিয়া এলাকায় তা’লীমুল কুরআন হাফেজিয়া ক্বওমী বালক- বালিকা মাদ্রাসা’য় ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের (যৌন নিপীড়ন) অভিযোগ উঠেছে আবদুর রউফ নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ফাঁস করায় ভুক্তভোগী শিশুকে চুরির অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনা ধামাচাপা দিতে সংবাদকর্মীকে ৫০ হাজার টাকার ঘুষ প্রস্তাব করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। এছাড়া বিচার চাইতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের পরিচয়ে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে শিশুটির নিঃস্ব পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতি রাতেই ভুক্তভোগী ওই শিশুর মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন করতেন শিক্ষক আবদুর রউফ। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। গত মে মাসের শেষের দিকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে বিস্তারিত খুলে বলে সে।
শিশুটির মা জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেনকে জানান। তখন পরিচালক বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করে শিক্ষক আবদুর রউফকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন। পরিচালকের আশ্বাসে শিশুটিকে পুনরায় মাদ্রাসায় পাঠানো হলে পরিচালকের স্ত্রী মীম খাতুন ও পরিচালক নিজে শিশুটির ওপর নির্যাতন শুরু করেন এবং কয়েক দিন আগে চুরির ভুয়া অপবাদ দিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন।
বর্তমানে ওই শিশুকে অন্য একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হলেও আতঙ্ক কাটেনি পরিবারটির। শিশুটির বাবা, যিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক, অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা আমাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। মামলা করলে গাড়ির চাকা থামিয়ে পা ভেঙে দেওয়া এবং মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি পুলিশ পরিচয়েও বাড়িতে লোক গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেনের তৎপরতা সামনে এসেছে। তিনি এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সাংবাদিকদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। (তার এই ঘুষ সাধার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে)। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষক আবদুর রউফের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে কাটাখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ঘটনাটি প্রথম থেকেই আমি জানি। খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, তবে তখন কেউ সত্যতা স্বীকার করেনি। এখন ছাত্রটিকে বের করে দেওয়ার পর অভিযোগটি সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিশ্চুপ ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ঘটনা ধামাচাপাদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

