আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এনডিটিভি

0
আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-র প্রতিবেদনঅনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে (২০ থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে) দুই দিনের এক দ্বিপক্ষীয় সফরে তিনি নয়াদিল্লি যেতে পারেন। সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয়পক্ষেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সফরটি চূড়ান্ত হলে এটি হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। এ সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।

কূটনৈতিক সূত্র ও গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং সম্পর্ক মেরামতের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আলোচনার সম্ভাব্য প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ট্রানজিট ও সীমান্ত পারাপার সুবিধা সহজ করা। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এর নবায়ন ও পানি বণ্টনের যৌক্তিক সমাধান বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং ঢাকা কর্তৃক তাকে ফেরত চাওয়ার অনুরোধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনাল সাজা দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণ চেয়েছিল ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী অভিহিত করে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের প্রচেষ্টায় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নয়াদিল্লি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের আউটরিচ পর্বেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সফরসূচি ও চূড়ান্ত তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও কূটনৈতিক মহল মনে করছে এই সফরটি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি নতুন গতি আনতে পারে।