জনবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও করভিত্তি সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ: ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২০’ উদ্বোধন

0
জনবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও করভিত্তি সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ: ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২০’ উদ্বোধন

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে রেখে একটি নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও জনবান্ধব সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা না চাপিয়ে করদানে সক্ষম নতুনদের করের আওতায় আনা এবং রাজস্ব সংক্রান্ত জনগণের বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা সহজ, ডিজিটালাইজড এবং হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। অনলাইনে কর পরিশোধ নিশ্চিত হলে করদাতাকে সশরীরে অফিসে আসার বাধ্যবাধকতা থাকবে না, যা করদাতাদের উৎসাহিত করবে।

তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো সম্ভাবনার চেয়ে কম। সীমিত সংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর চাপ বৃদ্ধি না করে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে প্রথাগত কাঠামোর মধ্যে আনা এবং নতুন করদাতা শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধানম্নত্রী ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, হস্তান্তর মূল্য (ট্রান্সফার প্রাইসিং), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক কর ব্যবস্থা মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি।

বৈদেশিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এনবিআরের অতীত স্বৈরাচারী ও দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে এনবিআরের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও রাজস্ব বিশেষজ্ঞগণ অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে মূলত ডাটাভিত্তিক আধুনিক রাজস্ব প্রশাসন গঠন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত না করে ভ্যাট আদায় সহজ করা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচার রোধে আন্তর্জাতিক সমন্বয় বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন সময়ের রাজস্ব সংগ্রহের ইতিবাচক ধারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান।