
রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখেই সেলাই করার ঘটনায় প্রায় ৫০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে কনিকা মণ্ডল (৩৫) নামের এক প্রসূতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকার বাড়িতে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বহরপুর ইউনিয়নের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে গত ২৯ জুন প্রসববেদনা উঠলে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং তিনি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই কনিকার পেট অস্বাভাবিক ফুলে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাঁকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে ডা. আব্দুল জলিলের অধীনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৭ জুলাই ধরা পড়ে যে, আগের অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই করা হয়েছিল। ওই দিনই পুনরায় জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পেট থেকে সেই গজ অপসারণ করা হয়।
দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আইসিইউসহ নিবিড় পরিচর্যায় থাকার পর গত বুধবার দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে সেখানেই কনিকা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গতকাল আজকের বাংলাদেশে অবহেলাজনিত মৃত্যুর এই লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত ত্রুটির প্রমাণ মিললে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
শুক্রবার সকালে সড়কপথে কনিকার বাড়িতে পৌঁছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের সমবেদনা জানান। তিনি পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
