
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি পৃথক অপরাধী চক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদের গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদপুরের বিতর্কিত জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ও বহু মামলার আসামি মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম, ‘মাহী গ্যাং’-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড জয় এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে ‘বোমা রতন’।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বছিলায় অবস্থিত র্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
র্যাব-২ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ আগস্ট রাতে জেনেভা ক্যাম্পের এক আস্তানায় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৩৬টি মামলার আসামি ও হত্যা-মাদকের একাধিক পরোয়ানাভুক্ত আসামি চুয়া সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানকালে তার কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, চুয়া সেলিম দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ মাদক ব্যবসা, খুন ও ছিনতাই চক্রের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন। এর আগেও গত বছরের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব।
পৃথক অভিযানে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপ’-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড জয়কে গ্রেফতার করা হয়। ১০টি মামলার আসামি জয় ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং নির্মাণ কাজের তদারককারীদের কাছে চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিলও সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিল।
অন্যদিকে, বিজলী মহল্লায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে গ্রেফতার হন কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে বোমা রতন। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। গজনবী রোড, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি ও অস্ত্রধারী গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ধারালো অস্ত্রসহ সে প্রথম গ্রেফতার হয়।
র্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদকের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আসামিদের সাময়িক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্যানুযায়ী তাদের অন্যান্য পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারেও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
