দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল: ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের নতুন ইতিহাস

0
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল: ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের নতুন ইতিহাস

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দরবার হলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা/প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বহিতে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। অপরদিকে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত) প্রার্থী ও এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট। ভোটদানে বিরত ছিলেন ৬ জন সংসদ সদস্য।

নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১১ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ১২(৬) অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কালিবাড়ী গ্রামের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত মাসে পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।

বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার আগে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ও মোনাজাতে অংশ নেন। শপথ অনুষ্ঠানের পর তিনি নতুন পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বঙ্গভবনে তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ শুরু করেন।