রাজশাহী প্রতিনিধি: সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে নজরুল ইসলাম জুলুর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. গোলাম মোস্তফা। ২০ আগস্ট বোয়ালিয়া মডেল থানায় করা জিডিটির নম্বর ১৫৭৫। এতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন স্থানীয় লোকজন নজরুল ইসলাম জুলুকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে বোয়ালিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরদিন ৬ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে আদালতে পাঠানোর জন্য থানার সামনে থাকা প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাতজন সাংবাদিক ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাতকড়া পরা অবস্থায় জুলুকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তিনি সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে গিয়ে লাথি মারার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। ভ্যানে ওঠানোর সময় তিনি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমি জেল থেকে বের হয়ে তোদের গুলি করে মারব, তোদের লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও ভিডিও ধারণকারী সাংবাদিকদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের রাস্তায় চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই জিডি করেছেন বলে জানান।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী বলেন, “জুলুর বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নজরুল ইসলাম জুলুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং, পুকুর ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ভাষাসৈনিক পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর নজরুল ইসলাম জুলু অবৈধভাবে রাজশাহী প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে জুলু নিজেকে প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দাবি করেন।
সাইদুর রহমান আরও বলেন, জুলুর বিরুদ্ধে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়।
আবু হাসান মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “জুলু প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাঁর বিরুদ্ধে জিডি করেছি। ভবিষ্যতে তিনি কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।”

