কালীগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণ : মামলার পর পলাতক প্রতিবেশী ইউসুফ, পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

0
কালীগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণ : মামলার পর পলাতক প্রতিবেশী ইউসুফ, পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে নিজ বাড়িতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মো. ইউসুফ আলী (৪০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত ২০ জুন সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন প্রতিবেশী ইউসুফ আলী। ঘটনার দিন সকালে কিশোরীর মা লালমনিরহাট জেলা সদর হাসপাতালে থাকায় বাড়িতে একা ছিল সে। এই সুযোগে ইউসুফ জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ স্মৃতি রাণী জানান, প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সেখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকেই আসামি ইউসুফ ও তাঁর স্বজনরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে এবং উদ্ধারকারীদের সহযোগিতার অপরাধে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

তবে ধর্ষণের এই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তের বড় ভাই ওয়াহেদ দেওয়ান বলেন, “আমার ভাইকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা চাই ডাক্তারি পরীক্ষা ও নমুনা যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি সে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী তার কঠোর শাস্তি হোক।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।