মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের শিবচরে শাম্পা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং তাঁর এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়ার মতো রোমহর্ষক ও নৃশংস জোড়া হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফারুক মোল্লা নামের এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সালাহ উদ্দিন কাদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত শাম্পা খাতুন নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সম্প্রতি একটি মামলায় শাম্পার স্বামী গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে হাজির হলে সেখানে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ফারুকের সঙ্গে শাম্পার পরিচয় হয়। স্বামীকে কারামুক্ত করার বিষয়ে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শাম্পার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন ফারুক।
সম্পর্কের সূত্র ধরে গত বুধবার ফারুকে প্রলোভন দেখিয়ে শাম্পাকে তাঁর শিবচরের বাসায় ডেকে নেন। ওই দিন রাতে শাম্পাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর নিহতের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে মরদেহ মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি নির্জন ঝোপের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। শাম্পার সঙ্গে থাকা এক বছরের শিশুসন্তান কান্নাকাটি করায় ঘাতক তাকে হত্যা করে পাশের আড়িয়াল খাঁ নদে ভাসিয়ে দেয়।
গত বুধবার সকালে পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে শাম্পার গলিত লাশ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর নিহতের বাবা বৃহস্পতিবার শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ওই রাতেই র্যাব ও শিবচর থানা পুলিশের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজৈর এলাকা থেকে ঘাতক ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর ফারুকের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, জুতা এবং আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পোড়ানো ওড়নার অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ধর্ষণের পর মা ও ছেলেকে হত্যার বিশদ বিবরণ দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছে।
শিবচর সার্কেলের এএসপি মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, “গ্রেপ্তার ফারুক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা কাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আড়িয়াল খাঁ নদে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় শিশু আবিরের লাশ উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সহযোগী বা মাস্টারমাইন্ড আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।”

