দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা ​

0
দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা ​

শহিদুল ইসলাম: যশোরের শার্শায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশুপুত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার পর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

​ নিহতরা হলেন চটকাপোতা গ্রামের মৃত নেদন আলীর ছেলে ভ্যানচালক কামাল হোসেন (৪৮) এবং তার দুই শিশুপুত্র সাবির হোসেন (৫) ও মোঃ জাবির হোসেন (৩)। ​ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চটকাপোতা গ্রামে কামাল হোসেনের সেমি-পাকা টিনের ঘরের ভেতর পারিবারিক কোন্দলের জেরে এই ঘটনা ঘটে। কামাল হোসেন প্রথমে তার দুই সন্তান সাবির ও জাবিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ওড়না দিয়ে ঘরের ফ্যান ও আড়ার সাথে তাদের ঝুলিয়ে দেন। এরপর তিনি নিজেও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। ​বিষের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে কামাল হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে পাশের একটি আমবাগানে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

​ পরবর্তীতে কামাল হোসেনের অপর দুই সন্তান আবিতা (১০) ও আবির (৮) বাড়ি ফিরে ভাইদের ঝুলন্ত অবস্থা দেখতে পেয়ে চাচি শিরিনা বেগমকে খবর দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ​ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কামাল হোসেন পেশায় একজন ভ্যানচালক ছিলেন। তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রী রাবিয়া বেগম ও চার সন্তানকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন। গত এক সপ্তাহ আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করলে তিনি নড়াইলে বাবার বাড়িতে চলে যান। তীব্র পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণেই কামাল হোসেন এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।