বাংলামোটরে যুবদল নেতা সাইমনের তাণ্ডব: এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও দু’রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেলে আগুন দিল ক্ষুব্ধ জনতা

0
বাংলামোটরে যুবদল নেতা সাইমনের তাণ্ডব: এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও দু’রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেলে আগুন দিল ক্ষুব্ধ জনতা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তিকে মারধর করে রক্তাক্ত করার পর প্রকাশ্যে দু’রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নেতার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে বাংলামোটর মোড়ের উত্তর পাশের একটি গলিতে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৬২/এ নিউ ইস্কাটন এলাকার বাসিন্দা মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে সোহাগের (৪৫) সঙ্গে হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনের বাকবিতণ্ডা হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে সোহাগের মাথায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করেন। এতে সোহাগের মাথা ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হন।

উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সাইমন নিজের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পর পর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলি ছুড়ে তিনি দ্রুত নিজের মোটরসাইকেলে চেপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।

অস্ত্র উঁচিয়ে গুলির ঘটনায় এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সাইমনকে ধাওয়া করে তার মোটরসাইকেলটি আটকে ফেলে। ক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে মোটরসাইকেলটি ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরবর্তীতে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আসার পর স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে অভিযুক্ত সাইমনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে এবং তার অবলিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

ঘটনায় গুরুতর আহত সোহাগকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সাইমন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মারামারি ও মাদকের অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার এসব অপকর্মের কারণেই দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আজ অন্যায়ভাবে সে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গুলি ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।”

ঘটনার পর পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাতিরঝিল থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।