বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ শীতের আগাম সবজির হালকা আনাগোনা শুরু হলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে স্বস্তির কোনো লক্ষণ নেই। অধিকাংশ সবজির দরই এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ৮০ টাকার নিচে হাত দেওয়ার মতো সবজি বাজারে বিরল বললেই চলে। শীতের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সুফল এখনো ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সপ্তাহের ছুটির দিনে বাজার করতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মাছ ও ডিমের দাম, তবে একমাত্র কাঁচা মরিচের বাজারে কিছুটা দরপতনের দেখা মিলেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও রায়েবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতের সবজি শিম; প্রতি কেজি শিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা। এ ছাড়া গোল বেগুন ও গাজর বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায়, টমেটো ১২০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ও বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের তালিকায় থাকা করলা, পটল, লতি, কাঁকরোল ও শসার দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা ছুঁয়েছে। ঢেঁড়স মিলছে ৬০ টাকায় আর আকারভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারের একমাত্র ব্যতিক্রমী সস্তা সবজি পেঁপে, যা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তবে কিছুদিন আগে ২০০ টাকায় ঠেকে যাওয়া কাঁচা মরিচ কিছুটা কমে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
আমিষের বাজারেও অস্বস্তি কম নয়। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু মাছের দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাবদা মাছ চলতি সপ্তাহে একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ টাকা কেজিতে। রুই মাছ আকার ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া কই মাছ প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, পাঙ্গাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং আকারভেদে চিংড়ি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
প্রোটিনের সহজ উৎস ডিমের বাজারে স্থানভেদে দরপার্থক্য দেখা গেছে; প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে মুরগির বাজারে বড় কোনো রদবদল ঘটেনি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ টাকা এবং কক বা সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী গিয়াস উদ্দিন হতাশা প্রকাশ করে জানান, একেকটি সবজির দাম শুনে তুলনামূলক কম মনে হলেও প্রয়োজনীয় ৩-৪টি পণ্য কিনলেই বাজেট পার হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিম, মরিচ, মাছ কিংবা ডিম কিনতে গিয়ে সংসারের অন্যান্য খরচে টান পড়ছে।
অন্য এক ক্রেতা জানান, পরিবারের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে মেলাতে গিয়ে প্রতি মাসেই বাজেটের চরম সংকট তৈরি হচ্ছে। এখন একটাই প্রত্যাশা—শীতকালীন সবজির সরবরাহ পুরোদমে শুরু হলে হয়তো বাজার কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নামবে।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও আড়তে সরবরাহের ঘাটতির কারণেই দাম কিছুটা চড়া। তবে সপ্তাহের মধ্যে শীতের সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দাম অনেকটাই নেমে আসবে বআগামী কয়েক লে তারা আশা প্রকাশ করছেন।

