কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চারদিনের জাপান সফর অত্যন্ত কার্যকর, সফল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত জাপান সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যাকার দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সফরটিতে শুধু যে জাপানের চলমান উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলছে তা নয়, বরং জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই পররাষ্ট্রনীতিকে সামনে রেখে যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মহাকাশ গবেষণা, স্থানীয় সরকার এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের অবিচ্ছিন্ন সহায়তার রূপরেখা নিশ্চিত হয়েছে।
সফরের প্রধান অর্জন ও চুক্তিমালা:
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা: সফরে দুই দেশের মধ্যে ৬টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল (MoU/LoI) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উপকূলীয় নিরাপত্তায় সাহায্য: বাংলাদেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার) অনুদান সহায়তার চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঋণ সহায়তা: দুটি ‘ইয়েন-লোন’ প্রকল্পের আওতায় ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
বেসরকারি খাতের বড় সাফল্য: জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO)-তে আয়োজিত বাণিজ্য সম্মেলনে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সফরকালে গত ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো এবং আইসিটি (ICT) খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যমানের বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিনিয়োগ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।
চারদিনের সরকারি সফর সম্পন্ন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৯ অক্টোবর রাতে দেশে ফিরেছেন। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফল সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নে বন্ধুপ্রতীম জাপানের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হলো।

