তাবারক হোসেন আজাদ: নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার করতে হয় পৃথক দু’টি ইউনিয়নের দশটি গ্রামের মানুষকে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের গাজীনগর ও রায়পুর গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর তীরে। নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার করতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ দশটি গ্রামের মানুষকে। পৌর শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামে ও হায়দরগঞ্জ সড়কে রায়পুর ইউনিয়নের চরপলোয়ান গ্রামে পৃথক ডাকাতিয়া নদীর ওপর ২৫০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকোর অবস্থান। গত ১৫ দিন ধরে সামাজিক সংগঠন তুহিন চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী ডাকাতিয়া নদীর পৃথক দুটি স্থানে জনবসতী এলাকায় সাঁকোর পরিবর্তে সেতু না হোক ভাসমান সেতু করার দাবীতে জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের গনস্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। ১০নং রায়পুর ও চরপাতা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাঁকোর উত্তর পাড়ে গাজীনগর, চরপাতা, আলোনীয়া, সাহেবগঞ্জ ও দুর্গাপুর গ্রাম। দক্ষিণ পাশে শায়েস্তানগর, দেবীপুর ও পূর্বলাচ্ছ গ্রাম। শায়েস্তানগরে তিনটি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মাদ্রাসাগুলোতে ওই পাঁচ গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। চরপলোয়ান গ্রামের নদীর ওই পাড়ে ৩০০ পরিবার এ সাঁকোটি দিয়ে পারাপার হতে হয়। ওই পরিবারের শিক্ষার্থীরা একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসা, ৪টি কেজি স্কুল, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতে তাদের একমাত্র ভরসা এ সাঁকো। প্রায় চার যুগ আগে এলাকার লোকজন বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেন। প্রতিবছর লোকজন চাঁদা তুলে এটি মেরামত করেন। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) চরপলোয়ান গ্রামে সাঁকোর কাছাকাছি যেতেই দেখা গেল, সাঁকোটি পার হতে গিয়ে ৩য় শ্রেণির একজন ছাত্র নদীতে পড়ে গেছেন। অনেক কষ্টে সাঁকোর বাঁশ ধরে সে ওঠার চেষ্টা করে উঠতে পেরেছে। সে জানায়, প্রায় সময় সাঁকো পার হতে গিয়ে পা পিছলে অনেকেই নদীতে পড়ে গেছেন। সাঁকোর পাশে একজন দোকানদার বলেন, প্রতি ছয় মাস পরপর ৬ মাস পরপর সাঁকোটি মেরামত করা হয়। জনপ্রতিনিধিদের বললেও কেউ ব্যবস্থা নেয় না। চরপলোয়ান ও গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম, হাফিজ মিয়া, মাইনুদ্দিন যাচ্ছিলেন কয়েক কিলোমিটার দূরে শায়েস্তানগর গ্রামে। এ যাত্রায় কোনো রকমে রক্ষা পেলেও সাঁকো পার হতে প্রতিবারই ভয়ে ভয়ে থাকেন। চরপলোয়ান, শায়েস্তানগর ও গাজীনগরসহ দশ গ্রামের লোকজনকে ডাকাতিয়া পার হতে পৃথক দুটি সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোদুটিই তাদের ভরসা। লোকজন উঠলেই দুলতে থাকে। দুলতে দুলতেই লোকজন নদী পার হন। শায়েস্তানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা নবম শ্রেণির ছাত্রী পেন্সি আক্তার ও শায়েস্তানগর জনকল্যান বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ফরহাদ হোসেন বলে, বাঁশের খুঁটির ওপর সাঁকোটি তৈরি। সাত-আটজন উঠলেই দুলতে থাকে। সাত-আট মাস আগে মেরামতও করা হলেও পারাপারে ঝুঁকি রয়ে গেছে আগের মতো। ১০নং রায়পুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সফিউল আজম চৌধুরী সুমন ও চরপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পৃথক দুটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ পারাপার হচ্ছে। আমরা একটি সেতুর জন্য অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু কর্তৃৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় এটি করা যাচ্ছে না।’ সামাজিক সংগঠক তুহিন চৌধুরী জানান, চরপলোয়ান ও গাজীনগর গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর উপর দুটি সাঁকোর জায়গায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেতু করার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু হয়নি। এবার ওই স্থানে রট-সিমেন্টের সেতুর পরিবর্তের ভাসমান সেতু নির্মাণের দাবীতে জনপ্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের
গণস্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে এবং কর্তৃপক্ষ তা করে দিবেন। উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন,‘ চরপলোয়ান ও গাজীনগর গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর উপর পৃথক দুটি সাঁকোর জায়গায় সেতু নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

