বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহৃত এক নবম শ্রেণীর ছাত্রকে নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই উদ্ধার অভিযানে সরাসরি তদারকি ও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অপহৃত কিশোরের বাবা খন্দকার শামীম সচিবালয়ের একজন কর্মচারী। ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে এবং অপহরণকারীদের প্রাণনাশের হুমকি শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়া শামীম হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলের জীবন ভিক্ষা চেয়ে আকুতি জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, শামীমের আর্তনাদ শুনে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নেন এবং দ্রুততম সময়ে ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশের রমনা বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিসি মাসুদ আলম জানান: দুপুর আড়াইটায় ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুল থেকে বের হওয়ার পর ৪-৫ জন যুবক ছেলেটিকে তুলে নিয়ে জোড়পুকুর এলাকার একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে আটকে রাখে। অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে এবং বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
পুলিশ প্রথমে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং সময়ক্ষেপণ করে। দর কষাকষির এক পর্যায়ে মুক্তিপণের অঙ্ক ১০ হাজার টাকায় নেমে আসে। টাকা পাঠানোর নম্বর চাওয়ার আড়ালে প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত করে ফেলে পুলিশ।
পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ওই নির্মাণাধীন ভবনে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ভবনটি থেকে অপহৃত ছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ছেলের ফিরে আসার খবরে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খন্দকার শামীম তার ছেলেকে ফিরে পেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া অপহরণকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

