মাসুদ রানা রাব্বানী : রাজশাহীর এক সময়ের প্রাণচঞ্চল কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা এখন প্রায় প্রাণীশূন্য। একসময় উট, বাঘ, সিংহ, অজগর, বড় বড় সাপ, সারস পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কবুতর, হরিণ, গাধা, কচ্ছপ ও উদবিড়ালসহ নানা প্রাণীতে মুখর ছিল পার্কটি। তবে সময়ের ব্যবধানে একের পর এক প্রাণী হারিয়ে গিয়ে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি প্রজাতির প্রাণীই টিকে আছে।
এ অবস্থায় পার্কটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন (রাসিক) নতুন করে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন-এর নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী বার্ড পার্ক করার প্রস্তাব দিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পার্কটির উন্নয়ন, পাখি সংগ্রহ ও অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে প্রকল্প বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে।
রাসিকের ভ্যাটেনিরারি সার্জন ডা. ফরহাদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে পার্কটিকে নতুনভাবে সাজানো হবে। সেখানে পাখিদের জন্য আবাসস্থল নির্মাণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংগ্রহ এবং অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১৫ প্রজাতির বাহারি পাখি রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে পার্কটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি হরিণ রয়েছে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী একটি হরিণের জন্য কমপক্ষে ৫০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। পার্কে হরিণের জন্য প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকায় সর্বোচ্চ ৮০টি হরিণ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ১২৯টি হরিণ আছে।
ডা. ফরহাদ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত হরিণের খাবার ও পরিচর্যায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তাই বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হরিণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তবে যারা কিনবেন, তাদের শুধু লালন-পালনের উদ্দেশ্যে নিতে হবে; কোনোভাবেই জবাই করা যাবে না।
তিনি আরও জানান, সিলেটের জালালাবাদ প্যারা কমান্ড ইউনিট পাঁচটি হরিণ চেয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুটি হরিণের জন্য এক লাখ টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুদান হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে প্রশাসকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পার্কটিতে দুটি ঘড়িয়ালও রয়েছে। এর মধ্যে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্ত্রী ঘড়িয়ালটি ডিমও দিয়েছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির অবকাঠামো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। সে সময়ই রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন রাখা হয়। তবে গত দুই দশকে একের পর এক প্রাণী হারিয়ে যাওয়ায় পার্কটির আকর্ষণ অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে টিকিট বিক্রির আয় দিয়েই কোনোভাবে অবশিষ্ট প্রাণীগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

