আদালত প্রতিবেদকঃ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (Arguments) উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। এর ফলে যেকোনো দিন সাবেক এই তথ্যমন্ত্রীর ভাগ্যে কী আছে, তা জানা যাবে।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মূলত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার জন্য মোট ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ায় পৃথক ঘটনায় ৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা। অভ্যুত্থান নস্যাৎ করতে উসকানি ও ষড়যন্ত্র। আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ ও সমর্থন। নিপীড়নমূলক কৌশলের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ। শুনানি শেষে আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দালিলিক তথ্যের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনীত প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এমনকি অনেক অভিযোগ আসামি অস্বীকারও করেননি। জনআকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেছি।”
অন্যদিকে, ইনুর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী দাবি করেন যে, এই মামলাটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্যমতে “হাসানুল হক ইনু সবসময় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন বলেই তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারকে উসকানিমূলক কোনো সমর্থন দেননি। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমরা রায়ে তার পূর্ণ খালাস প্রত্যাশা করছি।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সময়ে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের বিচার শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। হাসানুল হক ইনু ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই বিচার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ তা রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাল।

