ভবদহ এলাকায় লবনাক্ততায় জমি চাষাবাদের অযোগ্য: দিশেহারা কৃষক

0

জি.এম. মিন্টু: অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা মাছের ঘেরে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং লবনাক্ততার প্রভাবে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর এবং অভয়নগরের চাষযোগ্য জমির মাটি ‘বিষাক্ত’ হয়ে পড়েছে। এজন্য চলতি বোরো মৌসুমে এসব জমিতে ধান আবাদের পর বিভিন্ন স্থানে চারার শেকড় পচে যাচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাটি বিষাক্ত হয়ে কালো রং ধারণ করেছে। এসব মাটি শরীরের কোন স্থানে লাগলে চুলকানি হচ্ছে। কৃষকরা জমিতে নেমে কাজ করতে পারছেন না। রোপন করা ধানের শেকড় পঁচে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে এ সমস্যার সমাধান মিলবে না। তবে কৃষকরা এমন ভয়াবহ সংকটে পড়লেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই অবগত নয় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এমদাদ হোসেন সেখ বিষয়টিকে রীতিমতো গুজব বলে উড়িয়ে দেন। মণিরামপুর উপজেলার কুশখালী গ্রামের কৃষক দশরথ মল্লিক জানান, ধান রোপণের কয়েক দিনের মাথায় চারার শেকড় পঁচে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের না পেয়ে তারা স্থানীয় সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ক্ষেতে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির পাউডার প্রয়োগ করছেন। চলতি বোরো মৌসুমে যশোরের ৮ উপজেলায় ১ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এরমধ্যে মণিরামপুরে ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর ও অভয়নগরে এক হাজার ৪শ’ হেক্টর জমি রয়েছে। এসব জমিতে বোরো মৌসুমের পর মাছ চাষ করা হয়। মাছ দ্রুত বড় করতে এসব ঘেরে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়াসহ বিভিন্ন রাসায়নিক রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানী আমাদের প্রতিবেদক আব্দুর রহিম রানাকে জানান, এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। তবে এখনো সব জমিতে ধান রোপনের কাজ শেষ হয়নি। তবে এরই মধ্যে লবনাক্ততার কারণে প্রায় ৩৫ হেক্টর জমির ধান গোড়া পঁচা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তারা ধারণা করছেন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিরি আরো বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে লবন সহিষ্ণু জাতের ধান রোপনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার বলেন, মণিরামপুরে এবার ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ইরি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ২৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ শেষ হয়েছে। তবে এসব জমির কিছু কিছু অংশে লবণাতার কারণে ধানের গোড়া পচে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। মণিরামপুরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা মাছের ঘেরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহারের কারণে মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপর অনেক ঘেরে লোনা পানি উঠানো হয়েছিলো। সবমিলে মাটি বিষাক্ত হয়ে গেছে। মাটিতে নামলে প্রচন্ড চুলকাচ্ছে। ভারী বৃষ্টি না হলে শুধু ওষুধ দিয়ে এর সমাধান মিলবে না। তবে সাময়িক সমাধানের জন্য আমরা কৃষকদের আক্রান্ত জমিতে বিঘা প্রতি পাঁচ কেজি ডি পাউডার ও পাঁচ কেজি জিপসাম (কেজি প্রতি ৩০ টাকা) প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি।