বিচিত্র পেশা: কুঁচিয়া শিকার

0
বিচিত্র পেশা: কুঁচিয়া শিকার

তাবারক হোসেন আজাদ: প্রতিকেজি কুঁচিয়া (ইল মাছ) দাম ২শ থেকে ৪শ টাকা। চাইনীজদের একটি প্রিয় খাবার। বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও কুঁচিয়া বেশ ক্রেতা রয়েছেন, তারা এগুলো খুব মজা করে খায়। চাহিদা অনুযায়ী আগের মতো কুঁচিয়া পাওয়া যায় না। এ পেশাটিও কোন একদিন ছেড়ে দিতে হতে পারে। গ্রামে কাজ নেই তাই বাধ্য হয়েএ পেশায় আসা। অভাবের তাড়নায় বিচিত্র এ পেশায় জড়িয়ে সহজ-সরল ভঙ্গিতে জানান সিলেটের মোঃ সোহেল রানা। বুধবার তার সাথে কথা হয় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সিনেমা হল সংলগ্ন একটি বিলের পাশে। কথা বলছেন আর নিজের মতো করে বাঁশ দিয়ে তৈরি এক প্রকার শিকারের ফলইতে ছোট্ট ও সরু শলায় কেঁচো লাগা”েছ। তারপর শলাটি ফলইতে জুড়ে দিচ্ছেন। সোহেল রানা, বাড়ী সিলেটে। আরো ১০/১২জনের সাথে এখানে আসা। একসময় কৃষি কাজ করতেন গ্রামে। কৃষিকাজে লোকসান আর ভালো কোন কাজ না পেয়ে গ্রামের আরো ১০জনের সাথে বিচিত্র পেশা কুঁচিয়া শিকারে চলে আসেন লক্ষ্মীপুরে। এখানে এসে জেলার বিভিন্ন গ্রামে শিকার করেন কুইচ্ছা। স্থানীয়দের কাছে যা মেটেসাপ নামেই পরিচিত। স্থাানীয় লোকজন ভয়ে পালালেও কুইচ্ছা শিকারী সোহেল রানা কোন প্রকার ভয় ছাড়াই শিকার করে চলছেন কুইচ্ছা। তিনি জানান, মূলত শিকার করা কুঁচিয়াগুলো বিক্রি হয় পাশ্ববর্তি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ বাজারে বা চট্টগ্রামে। যেদিন বেশি শিকার হয় সেদিন মালগুলো চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। কম হলে হাজীগঞ্জ বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ২ কেজি বা কিছু বেশি শিকার হয়। তবে সব ফলইতে যে কুঁচিয়া পাওয়া যায়, তা-ও না। কোন কোন ফলইতে মাছও পাওয়া যায়। এখন কুঁচিয়া তেমন একটা না পেলেও দেশী শিং- কৈ-টাকি মাছ পাওয়া যায়। মাছ বিক্রি করে দিন চলে যায় বেশিরভাগ সময়। কুঁচিয়া শিকারে প্রাণীকূলের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আলী আজম জানান, বিষয়টা আসলে আমার জানা নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ সরকার জানান, জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে সাপ ও কুঁচিয়া । আর মাটির গভীরে কুই”ছা থাকার কারনে জমির মাটি নরম হয়। প্রাণী সম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।