জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল কলেজ শিক্ষককে মারধর করলেন ছাত্রলীগ নেতারা, মানববন্ধন 

0
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল কলেজ শিক্ষককে মারধর করলেন ছাত্রলীগ নেতারা, মানববন্ধন 
জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী আশিক রাজু ও যুগ্ম আহ্বায়ক জুল আরশ শুভর বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে ক্ষেতলাল সরকারি সাঈদ আলতাফুনেচ্ছা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনিকে (৩২) বেধড়ক মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কলেজ সড়কের  মৎস্য খামারের সামনে তাঁকে মারধর করা হয়। এঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে তিনটায় ওই কলেজের শিক্ষকেরা ক্ষেতলাল থানার সামনে মানববন্ধন করেছেন। এরপর অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার ওই শিক্ষক। এসময় কলেজের অন্য শিক্ষকেরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনি ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নশিরপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ মন্ডলের ছেলে। তিনি ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঞ্জুমান খালেদের ভাগিনা বলে জানা গেছে। গত ৭ জানুয়ারি  অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনি লোকজনদের ভোটকেন্দ্র আসতে বাঁধা দিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতারা তাঁকে মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, থানা পুলিশ, কলেজ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,  প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস সকালে কলেজে আসেন। উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী আশিক রাজু ও যুগ্ম আহ্বায়ক জুল আরশ কলেজে গিয়ে প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনিকে খোঁজাখুঁজি করে চলে আসেন। প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনি দুপুর খাবারের জন্য বাজারে আসছিলেন। তিনি দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজ সড়কের মৎস্য খামারের কাছে পৌছান। এসময় ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী আশিক রাজু ও যুগ্ম আহ্বায়ক জুল আরশ শুভ দলবল নিয়ে সেখানে প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনিকে বেড়ধক মারপিট শুরু করেন। কলেজের অন্য শিক্ষকেরা এগিয়ে এসে তাঁকে ছাত্রলীগের কবল থেকে উদ্ধার করেন। এঘটনা জানাজানির পর কলেজের সকল শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে তিনটায়  কলেজের শিক্ষকেরা থানার সামনে মানববন্ধন করেন। ওই মানববন্ধন থেকে শিক্ষকেরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় আগামী রোববার থেকে কলেজে ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি পালনের ঘোষনা দেন। খবর পেয়ে  বিকেলে জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি মারধরের শিকার শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছেন।
প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস রনি  বলেন, আমি কলেজ থেকে বের হয়ে দুপুরে ক্ষেতলাল বাজারে খেতে যাচ্ছিলাম। কলেজ সড়কের সরকারি মৎস্য খামারের সামনে পৌঁছালে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী আশিক রাজু ও যুগ্ম আহ্বায়ক জুল আরশ শুভ আমার পথরোধ করে আমাকে বলে তুই লোকজনদের ভোট দিতে বাঁধা দিয়েছিস। তোর খবর আছে বলে তাঁরা দুজন আমাকে বেধড়ক কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। এরপর আরও ১৫-২০ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী লাঠি-সোঁটা নিয়ে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। তাঁরা আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিপেটা করেন। এসময় আমার চিৎকারের সহকর্মীরা এগিয়ে এসে আমাকে ছাত্রলীগের কবল থেকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে বিকেলে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তিনি ভোটকেন্দ্রে আসতে কাউকে বাঁধা দেননি বলে জানিয়েছেন।
ক্ষেতলাল সরকারি সাঈদ আলতাফুন্নেছা কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান কেএম ফেরদৌস রহমান  বলেন, এটা ধৃষ্টতা। আমরা মানববন্ধন করেছি। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। আগামী রোববারের আগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা ওইদিন থেকে লাগাতা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করব।
এবিষয়ে জানতে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী আশিক রাজুর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেন। তাঁকে কলেজ শিক্ষককে মারধর করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক জুল আরশ শুভ কথা বলবেন বলে তাঁকে ফোন দেন। যুগ্ম আহ্বায়ক জুল আরশ শুভ ফোনে কথা বলব না বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্ষেতলাল কলেজের প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর এলাকার লোকজনদের ভোটকেন্দ্রে আসতে দেননি এমন অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতারা তাঁকে মারধর করেছেন। এঘটনায় ওই শিক্ষক থানায় একটি  লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রের্কড করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।