শিবচরে নজিরবিহীন দৃশ্য: ‘জয় বাংলা’ বলে ধানের শীষে ভোট চাইলেন নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতারা!

0
শিবচরে নজিরবিহীন দৃশ্য: ‘জয় বাংলা’ বলে ধানের শীষে ভোট চাইলেন নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতারা!

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর জনসম্মুখে এসেই বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মী। শুধু উপস্থিতিতেই ক্ষান্ত হননি তারা, ধানের শীষের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বিএনপির প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এই নজিরবিহীন ঘটনার অবতারণা হয়।

সাবেক চিফ হুইপের ‘সবুজ সংকেত’?

আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, তারা সাবেক চিফ হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন রয়েছে, আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং মামলা-হামলা থেকে বাঁচতে লিটনের অনুসারীরা কৌশল হিসেবে বিএনপির প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর তুলনায় নাদিরা আক্তার ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছেন বলে মনে করছেন একাংশের নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির মঞ্চে আ.লীগ নেতাদের ভিড়

পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরাসরি প্রার্থীর পাশে বসেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন: শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাহার ব্যাপারী। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা। এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ৭ জন বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সাবেক কাউন্সিলরবৃন্দ।

বিশেষ করে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হোসেন খান তার ৩ মিনিটের বক্তব্যের শেষে সজোরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে সেখানে এক বিচিত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, “কে কোন দল করল সেটা বড় বিষয় না, বড় বিষয় হলো আমরা সবাই মানুষ। আগামীতে শিবচরে কারও নামে কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না। নির্বাচনের পর আপনাদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) অযথা হয়রানি করা হবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে শিবচরকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে।”

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির কোন্দল এখন তুঙ্গে। নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর অনুসারীরাও থেমে নেই। জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার পক্ষেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তোতা খানকে প্রচারণায় দেখা গেছে। তারা বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

বিএনপির একটি বড় অংশ এই ‘আওয়ামী তোষণ’ নীতিতে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করছেন, এতে দলটির দীর্ঘদিনের নীতি ও ত্যাগের অবমাননা হচ্ছে। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খানের দাবি, এখানে কাউকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে না, তারা কেবল সমর্থন জানাতে এসেছেন।

নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও শিবচরের দৃশ্যপট বলছে ভিন্ন কথা। বিএনপি প্রার্থীর ছায়াতলে আওয়ামী লীগ নেতাদের এই প্রকাশ্যে ফিরে আসা এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।