বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৯২ শতাংশের বেশি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী। এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে ‘দুর্নীতি’র বিষয়টি ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের বড় একটি অংশ এবার বিএনপিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর দুই ধাপে (২০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬) এই জরিপ চালানো হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭.৩% ভোটার জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর বা দলের দুর্নীতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে, ৩৫.৯% ভোটার ধর্মকে গুরুত্ব দেবেন বলে মত দিয়েছেন। এর বাইরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটাররা কোথায় যাচ্ছেন?
আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভোট কোন দিকে যাচ্ছে—তা নিয়ে একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে জরিপে:
৪৮.২% ভোটার এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ২৯.৯% ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ৬.৫% ভোটারের পছন্দ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্যান্যদের ভোট দেবেন ১৩% এবং এখনও সিদ্ধান্তহীন ২.৪%।
নতুন ভোটারদের পছন্দ জামায়াত
২০০৮ সালের পর যারা প্রথমবার ভোট দেবেন, এমন তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ৩৭.৪% নতুন ভোটার জামায়াতকে ভোট দিতে চান। ২৭% ভোটারের পছন্দ বিএনপি। ১৭% ভোটার এনসিপি-কে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। সিদ্ধান্ত নেননি ১৮.৬% তরুণ।
ভোটাররা ব্যক্তিগত যোগ্যতার চেয়ে ‘জনদরদি’ নেতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে: ৩৩.২% ভোটার দল ও প্রার্থী উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেন। ৩০.৪% ভোটার শুধু দলকে দেখেন। ৩০.২% ভোটার শুধু প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, “আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের বিশাল ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।”
সিআরএফ-এর সহসভাপতি অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। ব্যালট বাক্স দখল বা সংঘাতের আশঙ্কা দূর করতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

