কলাপাড়া প্রতিনিধি: সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত ও জীবিত জেলিফিশ। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দীর্ঘ ২২ কিলোমিটারের একাধিক পয়েন্টে এসব জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে। গত শুক্রবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃত জেলিফিশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা জেলিফিশগুলোর কোনোটি আকারে ছোট, আবার কোনোটি বেশ বড়। দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো হলেও স্থানীয় জেলেদের কাছে এগুলো ‘লোনা’ নামে পরিচিত। দুর্গন্ধের কারণে পর্যটকরা কাছে গিয়ে এসব জেলিফিশ দেখতে পারছেন না। কেউ কেউ বাতাসের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে দেখছেন। এভাবে মৃত জেলিফিশ ছড়িয়ে থাকলে পুরো সৈকতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যটক রাব্বি বলেন,জেলিফিশের নাম শুনেছি, কিন্তু এই প্রথম এত কাছ থেকে দেখলাম। তবে এগুলো দ্রুত সরিয়ে না নিলে এগুলো পঁচে সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে।
স্থানীয় জেলে মো. জলিল জানান,পাঁচ-ছয় দিন আগে তাদের জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়েছিল। পরে জাল থেকে সেগুলো সমুদ্রে ফেলে দিয়েছি।
ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের মতে,জেলিফিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রাণী। সমুদ্রের পানিতে কোনো ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন বা বিপর্যয় ঘটলে এসব প্রাণী উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে, যা শঙ্কার কারণ। জেলিফিশ বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে। এদের শরীরে বিশেষ ধরনের দংশন কোষ রয়েছে, যা স্পর্শ করলে ত্বকে চুলকানি, ঘা এমনকি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। উন্নত দেশে জেলিফিশ উচ্চমূল্যের খাবার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এগুলো বালুর নিচে চাপা দিলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাওয়া জেলিফিশগুলো পরে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো ভেসে এসে কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিতে আটকে পড়ছে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো, ইয়াসিন সাদেক জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য মৃত জেলিফিশগুলো দ্রুত অপসারণ করে বালুতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন(উপরা)যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন,মৃত জেলিফিশগুলো পঁচে সৈকতে পড়ে থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সে বিষয়ে গবেষণা জরুরি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসেও কুয়াকাটা সৈকতে এ ধরনের বিপুল সংখ্যক জেলিফিশ ভেসে এসেছিল।

