পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত আরপিসিএল (RPCL) ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে জ্বালানি স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বিরত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতায় নিয়মিত জাহাজ আসছে না। সর্বশেষ গত ১৯ মার্চ ‘ডেজার্ট ভিক্টোরি’ নামের একটি জাহাজ কয়লা নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছালেও, সেখান থেকে পায়রা বন্দরে কয়লা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন জানান, “কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি বর্তমানে কেন্দ্রটির বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ (Annual Maintenance) কাজও চলছে। এই দুটি কারণেই মূলত উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (RPCL) এবং চীনের নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। পরিবেশবান্ধব আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি। ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা।
পটুয়াখালী ১৩২/১৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান পলাশ জানান, কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় বা লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে না। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা বজায় রাখতে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করে দ্রুত উৎপাদনে ফেরা জরুরি।
কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে, আমদানিকৃত কয়লার চালান পায়রা বন্দরে পৌঁছালে এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে পুনরায় ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে দ্বিতীয় ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।

