হাওরে পাকা ধানের মৌসুমে কৃষকের হাসি, মেঘলা আকাশে শঙ্কার ছায়া

0
হাওরে পাকা ধানের মৌসুমে কৃষকের হাসি, মেঘলা আকাশে শঙ্কার ছায়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। কোথাও আনন্দচিত্তে ধান কাটা শুরু হয়েছে, আবার কোথাও আকাশের রং বদলানো দেখে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। পাহাড়ি ঢল আর ফসল রক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে দোলাচলের মধ্যেই ঘাম ঝরানো ফসল দ্রুত গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরপারের মানুষ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান পেকে গেছে। কৃষকরা মনের আনন্দে ধান কেটে মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। তবে নিচু এলাকার আধা-পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে তড়িঘড়ি করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।

হাওরের কৃষকদের প্রধান দুশ্চিন্তা ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ফসল রক্ষা বাঁধের অনিয়ম নিয়ে। ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর নেতাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং অনিয়মের কারণে অনেক বাঁধই দুর্বল রয়ে গেছে।

কৃষক দেলুর ভাষ্য “ফসল ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাঁধ নিয়ে চিন্তায় আছি। নির্মাণে দেরি আর অনিয়মের কারণে বাঁধগুলো ঢল সইতে পারবে কি না, তা নিয়ে ভয় কাজ করছে।”

কৃষক লুতফর বলেন: “পুরোদমে ধান কাটা শুরু হতে আরও কয়েক দিন লাগবে। এর মধ্যে যদি ঢল নামে, তবে সব শেষ হয়ে যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চলতি বছর ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার অর্ধশত হাওরে ৬০৩ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ চলছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩টি প্রকল্পের (পিআইসি) কাজ সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই যেন তারা দ্রুত কেটে ফেলেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন খান বলেন, “বাঁধগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রাখছি যাতে তারা নিরাপদে ফসল গোলায় তুলতে পারেন।”

সব বাধা পেরিয়ে সোনালি ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারবেন—এমনটাই এখন হাওরপারের হাজারো কৃষক পরিবারের প্রার্থনা।