জয়নাল আবেদীনঃ দীর্ঘ দেড় দশকের প্রেম, অবশেষে সামাজিক চাপে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের দুয়ারে হাজির দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টা থেকে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের বালারদিঘী এলাকায় ওই নেতার বাড়িতে এই ‘অবস্থান কর্মসূচি’ শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম স্থানীয় কান্দি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
ভুক্তভোগী ওই নারীর দাবি, রফিকুলের সঙ্গে তার প্রণয় দীর্ঘ ১৫ বছরের। তিন বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। সম্প্রতি রফিকুল ওই নারীর বাড়িতে গেলে বিষয়টি ছোট ছেলের নজরে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরিবার ও গ্রামবাসীর চাপের মুখে পড়েন ওই নারী। শেষমেশ কোনো উপায় না দেখে বিয়ের দাবি নিয়ে রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তিনি। তার সাফ কথা, “বিয়ে না করা পর্যন্ত এই ভিটা ছাড়ব না।”
ঘটনাটি এলাকায় বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে কারণ— অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বিবাহিত এবং চার কন্যাসন্তানের জনক। অবস্থানকারী নারী বিধবা এবং দুই বিবাহিত ছেলের মা।
রফিকুল ইসলাম শুরুতে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় পর্যায়ে দেন-দরবারের পর পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ওই নারীকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই নৈতিক স্খলনজনিত ঘটনায় বিব্রত স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল আলিম আলম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন “সংগঠনের কোনো পদধারী নেতার বিরুদ্ধে যদি নৈতিক অবক্ষয় বা চারিত্রিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি, তবে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত তদন্ত শুরু করব।”
পারিবারিক দ্বন্দ্বে ঘেরা এই ত্রিভুজ সম্পর্কের টানাপোড়েনে রফিকুলের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে। দুই প্রৌঢ়ের এই অসম প্রেমে শেষ পর্যন্ত মালাবদল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

