একদিকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অন্যদিকে গ্রাহকরা নিজ নিজ উদ্দ্যেগে নিচ্ছেন সংযোগ

0
একদিকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অন্যদিকে গ্রাহকরা নিজ নিজ উদ্দ্যেগে নিচ্ছেন সংযোগ

জয়নাল আবেদীন: রংপুরে একদিকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অন্যদিকে গ্রাহকরা নিজ নিজ উদ্দ্যেগে সংযোগ নিচ্ছেন।

রোববার পর্যন্ত রংপুরে ষাটভাগ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার সংযোগ নিয়েছেন। এদিকে জনমতকে উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে রংপুরে হরতাল ও গণঅনশনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহানগর নাগরিক কমিটি। অবিলম্বে গণশুনানি আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রিপেইড মিটার নিয়ে জনমতকে মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছে কমিটির নেতৃবৃন্দ।শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গণঅবস্থান কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে নেসকো কর্তৃপক্ষকে লাল কার্ড প্রদর্শন করাসহ গানে গানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে গ্রাহক ভোগান্তি ও নানা হয়রানির কথা তুলে ধরা হয়।মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ জুননুন, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন সুমন, অ্যাডভোকেট খায়রুল ইসলাম বাপ্পী, আব্দুল জব্বার সরকার, মাহফুজ হোসেন, সমাজকর্মী নুরন্নবী বুলবুল, কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য আব্দুস সাত্তার প্রামাণিক বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রবল আপত্তি স্বত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগ জবরদস্তিমূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে চলেছে।বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎখাতে চুরি, অপচয় রোধ, ওভারলোড ও বকেয়া বিল ঠেকাতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যর্থতার দায়ভার গ্রাহকের কাঁধে চাপিয়ে দিতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করে যাচ্ছে।নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ আইনের ৫৬ ধারা মোতাবেক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে কোম্পানিকে ১৫ দিন পূর্বে নোটিশ দিতে হবে।

কিন্তু প্রিপেইড মিটারে স্থাপনে কোনো নোটিশ ছাড়াই স্থাপন করা হচ্ছে।অবস্থান কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, বিদ্যুৎখাতে বিগত সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ, গ্রাহক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণশুনানি ব্যতিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না নেওয়া এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।বক্তারা বলেন, সারা দেশে সব মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে আসা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ বিতর্কিত প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম স্থগিত করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের জন্য দাবি জানানো হয়। অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করা না হলে হরতাল-অবরোধ, গণঅনশন ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করাসহ কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।

এদিকে নেসকো সূত্রে জানা গেছে তারা ইতোমধ্যে ষাটভাগ গ্রহককে প্রিপেইড মিটার সংযোগ দিয়েছে বাকী চল্লিশভাগ গ্রাহক আন্দোলনকারীদের কারণে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা । তবে ওইসব গ্রহকদের বোঝানো হচ্ছে প্রিপেইড মিটার সংযোগ প্রসঙ্গে।তারা আশাবাদি ত্রিশ জুনের মধ্যে বাকী গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসবে ।