ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক গৃহবধূকে নিজ ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার খালিশপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত সাজ্জাদ সুন্দরপুর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন সরদারের ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম খালিশপুর গোহাটার পাশে একটি ভাড়া বাসায় জনৈক এক ব্যক্তিকে খুঁজতে যান। ওই সময় বাসায় গৃহবধূর স্বামী উপস্থিত ছিলেন না। স্বামীকে না পেয়ে সাজ্জাদুল ওই নারীর কাছে পানি খেতে চান। গৃহবধূ সরল বিশ্বাসে ফ্রিজ থেকে পানি আনতে গেলে সাজ্জাদ তাকে জাপটে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
ধর্ষণচেষ্টার সময় ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে সাজ্জাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাটি গোপন রাখার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এই রাজনৈতিক নেতা। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে সোনালী ব্যাংকের ২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। তবে ঘটনার জানাজানি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার চার দিন পর, শনিবার (৯ মে) ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযানে নেমে অভিযুক্ত সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, “গৃহবধূর স্বামীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।”
এক জন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন ন্যাক্কারজনক অভিযোগ এবং চেক দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

