সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা বিএসএফের: বিজিবির ‘রণমূর্তি’ দেখে পিছুটান, খুঁটি উপড়ে ফিরল ভারতীয় বাহিনী

0
সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা বিএসএফের: বিজিবির ‘রণমূর্তি’ দেখে পিছুটান, খুঁটি উপড়ে ফিরল ভারতীয় বাহিনী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী এলাকার কলসীর মুখ সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) খুঁটি গেড়ে বসার অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রংপুর ব্যাটালিয়নের (৫১ বিজিবি) জওয়ানদের তীব্র আপত্তি ও অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত অবৈধভাবে পোঁতা বাঁশের খুঁটিটি তুলে নিয়ে লেজ গুটিয়ে ফিরতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

সীমান্তের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুচলিবাড়ী কলসীর মুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ আইন অমান্য করে ‘জিরো লাইনে’ নিয়মবহির্ভূতভাবে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দা ও সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে আসবামাত্রই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের এই অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে এর তীব্র ও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজিবি জওয়ানরা সাফ জানিয়ে দেন, অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে এর ফল ভালো হবে না।

বিজিবির এমন সাহসিকতাপূর্ণ ও আপসহীন ‘রণমূর্তি’ দেখে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সুর নরম করে বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের ‘ভুল’ স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং তড়িঘড়ি করে জিরো লাইনে পোঁতা খুঁটিটি উপড়ে নিয়ে নিজেদের সীমানায় কেটে পড়েন।

বিএসএফের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ রুখে দেওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা বিজিবির এই তাত্ক্ষণিক ও সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রংপুর ব্যাটালিয়নের (৫১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন “সীমান্তে বিএসএফ প্রায়শই এই ধরনের চোরাগোপ্তা উপায়ে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করার চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবির টহল দল সজাগ থাকায় প্রতিবারই কড়া প্রতিবাদের মুখে তারা তা অপসারণ করতে বাধ্য হয়। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সর্বোচ্চ প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে।”

এ ঘটনার পর থেকে যেকোনো ধরনের উসকানি, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত অপরাধ রুখতে কুচলিবাড়ী সীমান্তে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।