নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতাকে ওত পেতে থাকা একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। নিহত ওসমান গণি স্থানীয় ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এবং আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ওসমান গণি আড়াইহাজারের বড় বিনাইর চর এলাকার মৃত আব্দুর রশীদের সন্তান। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহযোগী মাহফুজ ভূঁইয়া বাবুল জানান, কাউন্দার চকের একটি ক্রয়কৃত জমি থেকে শ্রমিকরা মাটি কেটে ডাম্প ট্রাকে তোলার কাজ তদারকি করছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ একদল মুখোশ পরিহিত ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী ওসমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন “একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্র বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের সেই অন্যায় দাবিতে রাজি না হওয়ায় তারা সুপরিকল্পিতভাবে ওসমানকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক সিফাত মিয়া বলেন, “সন্ত্রাসীরা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। তারা প্রথমে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং আমার চোখের সামনেই ওসমানকে কোপাতে থাকে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাদের বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।”
সন্ত্রাসীরা ওসমানের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থুলেই ওসমানের মৃত্যু হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার ভোরে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে নিহতের পরিবার, স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ এলাকাবাসী। তারা আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র অবরোধের কারণে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের ধরতেও চিরুনি অভিযান চলছে।

