নগরকান্দায় বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৫, আহত ১০

0
নগরকান্দায় বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৫, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের নগরকান্দায় সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চালক ও রোগীসহ মোট পাঁচজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

আজ রোববার (২৪ মে) ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে বিআরটিসির একটি বাস। অপরদিকে, মাদারীপুর বা শিবচর এলাকা থেকে এক রোগীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্স। পথিমধ্যে মহাসড়কের শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে উভয় যানের মধ্যে মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, অ্যাম্বুলেন্সটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে এক দলা লোহার স্তূপে পরিণত হয়। ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে মরদেহগুলো বের করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতদের সকলেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও আরোহী। সৌভাগ্যবশত বাসের কোনো যাত্রী নিহত হননি।”

তিনি আরও জানান, “অ্যাম্বুলেন্সটিতে একজন রোগী ছিলেন, যাকে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে নেওয়া হচ্ছিল। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”