চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় বন্যার পানিতে গোসল করতে গিয়ে একই গ্রামের পাঁচ কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে চর চাকলা মরা নদীর ধারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। নিহতরা হলো—মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও আদিবা (৯), নেজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৮) এবং শরিফুল ইসলামের মেয়ে শরিফা খাতুন (১১)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ মসজিদে এবং নারীরা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় পাঁচ কিশোরী বাড়ির পাশে একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে দলবেঁধে চর চাকলা মরা নদীর ধারে বন্যার পানিতে গোসল করতে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম জানান, মেয়েরা একই সঙ্গে পানিতে নামার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই পানিতে ডুবে যায়। তাদের কেউ সাঁতার জানত না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু একে একে পাঁচজনকেই পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হলেও তাদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একই গ্রামের পাঁচ কিশোরীর একসঙ্গে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় চর চাকলা এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজের সময় গ্রামের পুরুষেরা মসজিদে ছিলেন এবং নারীরা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে পাঁচ শিশু পরিবারের অগোচরে দলবেঁধে বাড়ির পাশে নদীর ধারে খেলাধুলা ও গোসল করতে যায়। নদীটি সাধারণত শুষ্ক থাকলেও বর্ষা ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে সম্প্রতি সেখানে গভীর পানি জমেছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের কেউ সাঁতার না জানায় পানিতে নামার পর মুহূর্তের মধ্যেই সবাই ডুবে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ও স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করে একে একে নদী থেকে পাঁচজনেরই নিথর দেহ উদ্ধার করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যা ও বর্ষার মরশুমে নদী-নালা বা খাল-বিলে পানি বৃদ্ধির ফলে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ পানিতে শিশুদের নেমে খেলাধুলা বা গোসল করা রোধে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

