
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিজ ঔরসজাত ছেলের নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আব্দুল লতিফ লুতু খান (৬০) নামে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাবাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করার একটি মর্মান্তিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। ভিডিওটি দেখে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষাদময় ভিডিওটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরকাড়লে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লুতু খানের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে নিজ বাড়িতেই লুতু খানের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে স্বজন ও পরিবারের কিছু সদস্য ঘটনাটি ‘হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সকালের দিকে সামাজিক মাধ্যমে ছেলের অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ লুতু খান অসহায় অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। এ অবস্থায় তাঁর ছেলে আরিফ হাতের লাঠি দিয়ে তাঁকে একের পর এক আঘাত করছেন। পিটানোর একপর্যায়ে যন্ত্রণায় বাবা নিথর হয়ে পড়লে আরিফ বলতে থাকেন—তার বাবা নাকি ‘অভিনয় করছেন’ বা ‘ভেংচি কাটছেন’। পাশে থাকা পরিবারের আরেক ছেলেও এ সময় আরিফের নির্মম কথার সাথে সায় দিচ্ছিল। ভিডিওর শেষভাগে বৃদ্ধকে নিস্তেজ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেশী মাহমুদা আক্তার জানান, অভিযুক্ত আরিফ এলাকায় মারাত্মক নেশাগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। ঘটনার রাতেও সে চরম মাদকাসক্ত অবস্থায় বাড়িতে এসে বাবার ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। ওই শারীরিক নির্যাতনের কিছু সময় পরই বৃদ্ধ লুতু খান মারা যান।
ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই ঘাতক আরিফ তার সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান।
নিহতের চাচাতো ভাই ফরহাদ আহমেদ অভিযোগ করেন, আরিফ শুধু মাদক সেবনই নয়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ মাদক কারবারের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, শারীরিক নির্যাতনের ভিডিওটি নজরে আসার পরই পুলিশ গিয়ে নিহতের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কলহের পর গভীর রাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আঘাতজনিত নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
